ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মসূচি ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে পৃথক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ক্যাম্পাসে আহত হয়েছেন অনেকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও উন্নয়ন দাবি কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পৃথক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে ক্যাম্পাস দুটিতে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা কলেজে অন্তত ২৭ জন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা কলেজে গ্যালারি সাজানোকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের গ্যালারি নম্বর ২-এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে 'জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে তাদের সাজসজ্জার কাজ চলছিল। এ সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরে তাঁকে উদ্ধার করে পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল কর্মী রাসেল জানান, সকালে শিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ছাত্রদল কর্মীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে ও মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের অন্তত ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের আগমনকালে সহিংসতা
অন্যদিকে, একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রবেশকালে হামলার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা।
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদল নেতারা জকসু প্রতিনিধি ও তাঁদের সমর্থকদের ওপর চড়াও হন। শিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের হামলায় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন।
জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে 'মব' সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তারা নিজেরাই নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে।"


