দাউদকান্দিতে এক রাতের অভিযানে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৮
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মডেল থানা পুলিশের রাতভর অভিযানে ৪ কেজি গাঁজাসহ হত্যা, ডাকাতি ও চুরি মামলার মোট ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে জেলহাজতে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ মহাসড়ক ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক রাতের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪ কেজি গাঁজাসহ হত্যা, ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরি মামলার মোট ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) দাউদকান্দি মডেল থানার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ এ সফল অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের সরাসরি নির্দেশনায় পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রোববার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে এ অভিযান চালায়।
অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিবরণ
মাদকের চালান জব্দ: ১ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে দাউদকান্দি পৌরসভার দক্ষিণ সতানন্দী এলাকায় চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এসআই মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে তল্লাশিকালে মোছা. সোনিয়া আক্তার ওরফে রিয়া মনি নামের এক নারীর কাছ থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: শনিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে এসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে শহিদনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডাকাতি মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার: ২ আগস্ট রোববার ভোর সাড়ে ৩টায় এসআই আজিজুল ইসলাম সবজিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতি মামলার তিন ফেরারি আসামি—সুমন, আলামিন ও শরীফকে গ্রেপ্তার করেন।
ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরি মামলার আসামি: রাত ১টা ২০ মিনিটে উপজেলা গেট এলাকা থেকে এসআই আরিফুর রহমান ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার দুই আসামি সজীব ও নাছিরকে এবং রাত আড়াইটায় দোনারচর এলাকা থেকে এসআই মো. মনির হোসেন চুরি মামলার আসামি হৃদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
ওসি-র বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেপ্তারকৃত ৮ আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে রোববার দুপুরেই বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। দাউদকান্দি থেকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মূল উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত থানা পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


