আমিনবাজারের ময়লা সরাতে ৩০ দিনের আলটিমেটাম ডিসি ফরিদার
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে মহাসড়কের দুই পাশে জমে থাকা প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ময়লা-আবর্জনা ৩০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। সেখানে খাস জমিতে হবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন।
রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমে থাকা বর্জ্য ও তীব্র পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। আগামী ৩০ দিনের (এক মাস) মধ্যে মহাসড়কের দুই পাশের সকল ময়লা-আবর্জনা সম্পূর্ণ অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ডাম্পিং সংস্থাকে চূড়ান্ত সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বর্জ্য ফেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) আমিনবাজারের মহাসড়ক সংলগ্ন বর্জ্য এলাকা সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক এই কড়া নির্দেশনা ও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
২ কিলোমিটার জুড়ে নরক গুলজার, চরম ভোগান্তি:
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যত্রতত্র বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো আমিনবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ভয়াবহ বায়ু ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং প্রতিদিন যাতায়াত করা হাজার হাজার যানবাহনের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে বর্জ্যের এমন উন্মুক্ত স্তূপ জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
আসছে নতুন ডাম্পিং স্টেশন ও সবুজ বেষ্টনী:
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সাংবাদিকদের বলেন, “রাজধানীর আমিনবাজারের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রবেশপথে এ ধরনের নোংরা ও দূষিত পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানকার সব ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে মহাসড়কের পাশে কেউ আর কোনো ময়লা বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেজন্য আমরা স্থায়ী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান মহাসড়কের এই স্থানের পরিবর্তে জনবসতি থেকে দূরবর্তী এলাকায় উপযুক্ত খাস জমি চিহ্নিত করে সেখানে একটি আধুনিক ও সুনির্দিষ্ট ‘ডাম্পিং স্টেশন’ স্থাপন করা হবে। ফলে আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে আর বর্জ্য ফেলার প্রয়োজন হবে না।
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বনায়ন:
জেলা প্রশাসক বলেন, “বর্জ্য অপসারণের পর সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করে পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ মহাপরিকল্পনার আওতায় সেখানে সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে ঢাকার প্রবেশপথটি আরও পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আমাদের মূল লক্ষ্য—পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য এক আধুনিক সাভার গড়ে তোলা।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় পৌরসভার প্রতিনিধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


