খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৩

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়েছেন।

Jul 6, 2026 - 14:51
 0  6
খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৩
×

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুটি বিবাদমান আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ এবং জেএসএস (এমএন লারমা)-এর মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

​আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের কোন্দলকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF) এবং জনসংহতি সমিতি (JSS)-এর সশস্ত্র কর্মীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে আকস্মিক ভারী ও দূরপাল্লার অস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। বেশ কিছু সময় ধরে চলা এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। তবে দুর্গম এলাকা এবং নিরাপত্তার কারণে নিহতদের নাম-পরিচয় বা তারা কোন সংগঠনের সদস্য, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী:

পানছড়ি থানার ওসি মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, “উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং বিস্তারিত জানতে আমাদের তদন্ত চলছে।”

​এদিকে, এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এই বন্দুকযুদ্ধ ও ৩ জন নিহতের বিষয়ে আঞ্চলিক দুই সংগঠন ইউপিডিএফ কিংবা জেএসএসের দায়িত্বশীল কোনো নেতার পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা দায় স্বীকারের তথ্য পাওয়া যায়নি।