জামায়াতকে নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় পালাতে বাধ্য হয়েছিল সরকার: শফিকুর রহমান
২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করার মাত্র তিন দিনের মাথায় ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে সাবেক সরকার রান্না ভাত ফেলে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মাত্র তিন দিনের মাথায় উত্তাল গণআন্দোলনের তোপে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন’-এর ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন পতনোন্মুখ সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরদিন ১ আগস্ট গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জুলুমবাজ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করি। সেদিন আমরা দলীয় নেতাকর্মীসহ আপামর দেশবাসীকে রাজপথে আন্দোলনরত বীর ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম।”
'রান্না ভাত ফেলে পালিয়েছিল ফ্যাসিবাদ'
জনগণের গণজাগরণের শক্তি তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, “আল্লাহর মেহেরবানি ও জনগণের অভূতপূর্ব প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচারী সরকার তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। ১ আগস্ট তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে আর তার মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে, ৫ আগস্ট দুপুরে নিজেদের রান্না করা ভাত পর্যন্ত ফেলে রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।”
সাবেক সরকারের দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ভেবেছিল চরম জুলুম, নিদারুণ নির্যাতন এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু দেশের জাগ্রত জনতা নিজেদের বুকের রক্ত দিয়ে তাদের সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল।”
অন্যায়ের পরিণতির বার্তা
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী—দীর্ঘ সময় ধরে নিজ দেশের জনগণের ওপর জুলুম-পীড়ন চালিয়ে কোনো অত্যাচারী সরকার টিকে থাকতে পারে না। সত্য ও পরাক্রমশালী জনগণের প্রতিরোধের সামনে অচিরেই সব অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। অন্যায় ও অবিচারের পরিণতি প্রতিটা স্বৈরাচারকে ভোগ করতেই হয়।”


