সারা দেশে বৃষ্টি, ভারি বর্ষণে ডুবেছে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় বহু এলাকা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগেই অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সবকটি সমুদ্রবন্দরে আগের মতোই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টায় আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বুলেটিনে সর্বশেষ এই আবহাওয়া পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।
দুর্বল হলেও সক্রিয় লঘুচাপ, সমুদ্র উত্তাল:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে ‘সুস্পষ্ট লঘুচাপ’ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তীব্র তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ফলে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে যেকোনো সময় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, তলিয়েছে চট্টগ্রাম:
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বহাল রয়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় এর তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।
এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৭৭ মিলিমিটার, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১৯৫ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১৬৭ মিলিমিটার এবং পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিভারি এই বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের বহু নিচু এলাকা ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি, বজ্রপাতের সতর্কতা:
উপকূলের তুলনায় রাজধানীতে বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং বৃষ্টি ঝরছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ দুপুর ১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীতে থেমে থেমে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত চলছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অতিভারি বৃষ্টিপাতের সময় সাধারণ মানুষকে বজ্রপাত ও জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ঘটনা থেকে সতর্ক থাকার এবং গণমাধ্যমের আবহাওয়া সংবাদের ওপর নজর রাখার বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।


