হবিগঞ্জের ঘটনায় বিএনপির সুপ্ত স্বৈরতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে: গাজী আতাউর রহমান

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় বাধার ঘটনাকে বিএনপির সুপ্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

Jul 30, 2026 - 16:12
 0  6
হবিগঞ্জের ঘটনায় বিএনপির সুপ্ত স্বৈরতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে: গাজী আতাউর রহমান
×

হবিগঞ্জে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে বিএনপির অভ্যন্তরে থাকা ‘সুপ্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের উৎকট বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের সহিংসমূলক আচরণ থেকে সরে আসার কড়া বার্তা দিয়েছেন।

​আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

​বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “হবিগঞ্জে গত দুই দিনে যা ঘটেছে, তা কেবল সাধারণ কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এটি বিএনপির ভেতরে থাকা সুপ্ত স্বৈরাচারী প্রবণতা ও কর্তৃত্ববাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে প্রতীয়মান হয়।”

​'আওয়ামী ধাঁচের পুনরাবৃত্তি'

​তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এনসিপির পদযাত্রায় নেতাকর্মীদের বক্তব্য এবং ছাত্রদলের কর্মীদের হামলার ঘটনাকে প্রথমে স্থানীয় পর্যায় রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে যেভাবে পদে পদে বাধার মুখে পড়েছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পতিত আওয়ামী শাসনামলের বহুল আলোচিত ও ঘৃণ্য রাজনৈতিক কৌশলের পুনরাবৃত্তিই প্রত্যক্ষ করেছে।

​ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতন ও চব্বিশের জুলাইয়ের বিপুল আত্মত্যাগের পর দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আশা ছিল। ধারণা করা হয়েছিল বিএনপি সেই রক্তাক্ত ইতিহাস থেকে ইতিবাচক শিক্ষা নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে দলটি শিক্ষা গ্রহণ না করে উল্টো একই ধ্বংসাত্মক পথ অনুসরণ করছে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সরকারের দায়িত্ব

​রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সরকারের। বিরোধী পক্ষের কঠোর সমালোচনাকে গণতন্ত্রের মৌলিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বলপ্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শনের বদলে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই শ্রেয়।”

​তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিরোধী মতকে দমনের এমন মনোভাব অব্যাহত থাকলে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে কোনো দল বা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই কল্যাণকর হবে না।