গাজার স্বাধীনতা ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া অস্ত্র ছাড়বে না হামাস
গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন হামাস নেতা গাজী হামাদ। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আগে কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা গাজী হামাদ কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে গাজী হামাদ বলেন, “হামাসের সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সরাসরি কোনো ভূমিকা বা কর্তৃত্ব থাকবে না। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা ও সমাধান করা হবে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে—শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।”
হামাস নেতার মতে, গাজা উপত্যকা পরিচালনার দায়িত্বে আসতে যাওয়া ফিলিস্তিনি 'টেকনোক্র্যাটিক কমিটি' এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীকে গাজার ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েল-সমর্থিত স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীকে অবিলম্বে বিলুপ্ত করার কাজ তদারকি করতে হবে।
টেকনোক্র্যাটিক কমিটি ও 'বোর্ড অব পিস'-এর ঘোষণা
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, গাজার ভবিষ্যৎ বেসামরিক প্রশাসনের জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটিই হামাসের সমরাস্ত্র ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার একমাত্র আইনগত কর্তৃপক্ষ হবে।
এদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া এক পৃথক বিবৃতিতে হামাস পুনর্ব্যক্ত করেছে—গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং উপত্যকাটিতে মানবিক ত্রাণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর শর্ত বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করেই কেবল অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগোবে।
এর আগে আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ এক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় নতুন শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুত্থানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নের বিস্তারিত কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে হামাস। সংস্থাটি একে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নেতানিয়াহুর অটল অবস্থান ও গণহত্যা
তবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিবৃতির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। বরং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের উগ্রপন্থী মন্ত্রীরা বারবার ঘোষণা দিয়ে আসছেন—ইসরায়েলি সেনারা কোনো অবস্থাতেই গাজা ছেড়ে যাবে না।
চলতি বছরের মে মাসে নেতানিয়াহু গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা স্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার রূপরেখা প্রকাশ করেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় গাজায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অবরুদ্ধ উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


