জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল ইসলাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা নির্বাচনের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেন তিনি।

Jul 19, 2026 - 16:20
 0  6
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল ইসলাম
×

জুলাই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের দ্রুত অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

​আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন ও মেনিফেস্টোর মাধ্যমে সমাধান:

জুলাই সনদের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “এই সনদে অত্যন্ত পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা আছে—যেসব মৌলিক বা নীতিগত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখনই সর্বসম্মতভাবে একমত হতে পারছে না, তারা পরবর্তীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে নিজ নিজ দলীয় মেনিফেস্টো (ইশতেহার) অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। সুতরাং এটি নিয়ে এখন জলঘোলা করার কোনো অবকাশ নেই। বিএনপি তথা আমাদের দল যেসব প্রতিশ্রুতি দেশের জনগণকে দিয়েছে, সরকার এখন সুনির্দিষ্টভাবে সেগুলোই বাস্তবায়ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”

বিরোধী দলগুলোকে সংলাপে আহ্বান:

রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এসে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি সমস্যা সমাধানের জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, টেবিলে বসে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো জটিল বিতর্কের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।

ন্যায় ও ইনসাফের নতুন রাষ্ট্র গঠন:

শহীদ সাংবাদিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “চব্বিশের জুলাই আন্দোলন আমাদের সামনে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যেকোনো মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের নিজেদের ওপর সেই গভীর আস্থা ও বিশ্বাস আছে যে, দেশের সব স্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সত্যিকারের ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনের রাষ্ট্র গঠন করতে পারবো।”

​অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবার এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।