ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্য পূরণ হয়নি: চরমোনাই পীর
ফ্যাসিবাদের পতন হলেও চব্বিশের আন্দোলনের তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্ম যে মহান লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়ে চব্বিশের রক্তঝরা আন্দোলন করেছিল, তা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি সফল গণ-অভ্যুত্থান ও সংগ্রামের পরেই দেশের শাসনভার ঘুরেফিরে এমন কিছু শক্তির হাতে গিয়েছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ এবং মানবতা কোনোটিই নিরাপদ নয়।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে “স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই” শীর্ষক আয়োজিত এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এসব কথা বলেন।
‘শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার ভুল আর নয়’:
বিগত ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যবচ্ছেদ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক ভুল আমাদের দেশের মানুষ বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে বারবার এমন চরম হতাশা নেমে আসে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে পারে না। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন নিজেদের ভাগ্যের চিরস্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতে কাজ করতে হবে। কারণ একমাত্র ইসলামী শরীয়াহর শাসনই হচ্ছে মানবতার প্রকৃত এবং আদর্শ শাসন।”
চব্বিশের রাজপথের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ:
আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে চরমোনাই পীর বলেন, “চব্বিশের সেই উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোতে আমরা আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রেখেও রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে বুক চিতিয়ে অবস্থান নিয়েছি। চব্বিশের এই ঐতিহাসিক দিনেও বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বিশাল সমাবেশ ও মিছিলে আমি নিজে এবং আমার হাজার হাজার যুবকর্মী উপস্থিত ছিলাম। সেদিন আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপরেও স্বৈরাচারের পেটোয়া ও খুনি বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল।”
ফ্যাসিবাদের পতন নিয়ে দৃঢ়তা:
তিনি আরও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এবং আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেদিন খুনিদের সরাসরি বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছি। আমি সেদিনই বুক ফুলিয়ে বলেছিলাম, স্বৈরাচার যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এই ফ্যাসিবাদের পতন হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমতে ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে সেই খুনি ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। তবে আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি, জুলাইয়ের চেতনা ও সাধারণ মানুষের অধিকার শতভাগ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মাঠে থাকতে হবে।”
আলোচনা সভায় ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


