শাপলা গণহত্যা তদন্তের অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হেফাজত নেতারা
মতিঝিলের শাপলা চত্বরের গণহত্যার তদন্তের অগ্রগতি জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। ৪১ জনকে আসামি করে ২১ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা। তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যেই তাদের তদন্ত সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন টিমের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং আগামী ২১ জুলাই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে জরুরি এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন।
প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতী হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভীসহ শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম।
আসামির তালিকায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন:
প্রসিকিউশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, শাপলা চত্বরের এই নৃশংস দমনপীড়নের ঘটনায় প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় প্রধান হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, বিতর্কিত সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও লেখক শাহরিয়ার কবীরের নাম রয়েছে।
২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন পেশ:
হেফাজত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের (প্রসিকিউশনের) কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনি পর্যালোচনার (Scrutiny) কাজ চলছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ঐতিহাসিক তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করব।”
ঢাকায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত:
প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত কেবল ঢাকা মহানগরেই শাপলা চত্বরের অভিযানে ৩২ জন নিহত হওয়ার অকাট্য দালিলিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরো দেশের তথ্য ও তদন্তের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত মোট নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি ও আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কিছুক্ষণ পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের (ব্রিফিং) মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।
সাক্ষাৎ শেষে হেফাজতে ইসলামের নেতারা ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


