ভারতের বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মেদি সরকার

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে মোদি সরকার।

Jul 31, 2026 - 15:24
 0  3
ভারতের বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মেদি সরকার
×

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে স্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়েছে।

​কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা বছর শেষের দিকে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে একটি বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের রাজনীতি ও কূটনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান শেষে দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।”

​অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে, তা ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।

​সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের ঐতিহাসিক মানবিক ঐতিহ্য এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অলোকেই মূলত শেখ হাসিনাকে দেশটিতে অবস্থান করার সাময়িক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত এই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলছে যে—ভারতীয় ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো বা কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও ভিসা চালুর সুপারিশ

​‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নীতিগত ও মানবিক অবস্থান বজায় রেখে সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

​কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সুবিধা সীমিত হয়ে পড়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রতিকূল প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দুই বছর বন্ধ থাকার পর অতি সম্প্রতি (২৮ জুন ২০২৬) পর্যটক ভিসা প্রদান পুনরায় সীমিত আকারে চালু করেছে ভারত।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা

​১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদী ‘গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি’-এর মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। হালনাগাদ জলপ্রবাহের সঠিক তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই চুক্তি নবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

​পাশাপাশি, বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতের মূলধারার কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রাখার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটির সদস্যরা।