বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি: ভারতীয় হাইকমিশনার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ ও উভয় দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর করার বার্তা দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

Jul 29, 2026 - 21:02
 0  2
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি: ভারতীয় হাইকমিশনার
×

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে সাদরে গ্রহণ করতে দিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে এরই মধ্যে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

​আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

​প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, “আমি মনে করি সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই সফরটি বাস্তবায়িত হবে।”

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রথম বৈঠক

​পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে এটিই ছিল ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকটি ইতিবাচক ও অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের আলোচনা খুব চমৎকার হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ও বিষয়গুলো অভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে এমনকি ক্রিকেটসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা জানেন যে, আমরা ইতোমধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও উন্মুক্ত করে দিয়েছি, যাতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সাধারণ মানুষই এর সুফল পেতে পারে। আমরা শুধু দীর্ঘ সীমান্তই ভাগাভাগি করি না; আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নও এক। এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ।”

তিস্তা-গঙ্গা পানি চুক্তি ও ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গ

​তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার জানান, আজকের সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্যমূলক হলেও কৌশলগত বিষয়গুলোতে দুই দেশই ইতিবাচক।

​তিনি বলেন, “পারস্পরিক সঠিক বোঝাপড়া থাকলে এমন কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দিনশেষে মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা। পানি চুক্তির বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (Joint Working Group) সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এসব সার্বিক বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছি।”

​উল্লেখ্য, আগামী ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নতুন দিল্লিতে ব্রিকসের (BRICS) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্র না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।