শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করল ইরান
ইউক্রেনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে ইরান। কিয়েভ দুঃখ প্রকাশ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা।
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জের ধরে ইউক্রেনের তিনটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনাটি বাতিল করেছে ইরান।
কিয়েভের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করার পরই তেহরান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ মুজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সরাসরি এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
রেজাই সরাসরি উল্লেখ করেন, “ইউক্রেনের অভ্যন্তরে আঘাত হানার জন্য আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহরের সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া ও দুঃখ প্রকাশের পর সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে অভিযানটি স্থগিত বা বাতিল করা হয়।”
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এই ইরানি সামরিক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নৌপথের বাইরে কোনো ধরনের বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। শত্রুপক্ষের যেকোনো যুদ্ধজাহাজ যদি 'অবৈধ পথ' ব্যবহারের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ধ্বংস করা হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সামরিক সংঘাতের সময়ে ইরানের ছোঁড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং মার্কিন বহর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ ইরান অভিযোগ তুলেছিল যে, কাস্পিয়ান সাগরে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়। এতে এক ইরানি নাবিক নিহত হন।
ওই ঘটনার পর পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাকে টেলিফোন করে কড়া প্রতিবাদ জানান এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানান। এই উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে হামলার প্রস্তুতির কথা প্রকাশ্যে আনা হলো, তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


