যুদ্ধ বন্ধ ছাড়া হরমুজ প্রণালী খুলবে না: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তন ও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি।
পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তেহরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠককালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগ্রাসন ও যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।
রেজায়ি অভিযোগ করে বলেন, "ইরানের ওপর একটি অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন ও আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধই থাকবে।"
তিনি ইরানের বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, ইরানের জব্দ করা সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সমস্ত সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ওমানের সঙ্গে নৌপথ সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে রেজায়ি জানান, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে কোনো আলাদা সমঝোতা হলে তা প্রণালী অবরোধের মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; দুটি বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৈঠকে 'রমজান যুদ্ধ'-এর সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রস্তাবে সমর্থন না দেওয়ায় চীনকে ধন্যবাদ জানান রেজায়ি। চীন ও ইরানকে কৌশলগত মিত্র উল্লেখ করে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে, বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউ ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কড়া বিরোধী চীন। ইরানের শক্তি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রশংসা করে আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এই চীনা প্রতিনিধি।


