একদিকে জুলাই চেতনার আলাপ, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে হামলা এ কেমন দ্বিচারিতা?:ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

মাদারীপুর সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কর্মীর ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একে জুলাই চেতনার সাথে চরম দ্বিচারিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।

Jul 18, 2026 - 19:46
 0  9
একদিকে জুলাই চেতনার আলাপ, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে হামলা এ কেমন দ্বিচারিতা?:ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ
×

২৪-এর জুলাইয়ের মূল চেতনা ছিল ফ্যাসিবাদের বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক নৈতিক অবস্থান। সেই চেতনার মূল শিক্ষা ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, ক্যাম্পাসগুলোতে সহাবস্থান এবং সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ আজ রাষ্ট্র সংস্কারের যুগে সেই চেতনার কথা মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​আজ ১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) সকালে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার গুরুত্বপূর্ণ ষান্মাসিক অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এসব কথা বলেন।

মাদারীপুর সরকারি কলেজে হামলার তীব্র নিন্দা:

ক্যাম্পাস রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মুনতাছির আহমাদ বলেন, “মাদারীপুর সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কর্মীর ওপর ছাত্রশিবিরের সংঘটিত হামলাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নাই। মত ও আদর্শের ভিন্নতার কারণে একজন নিরীহ শিক্ষার্থীর ওপর এভাবে হামলা চালানো শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; বরং এটি সামগ্রিক শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ পরিবেশ, গণতান্ত্রিক সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর এক নগ্ন আঘাত।”

​তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একদিকে জুলাইয়ের চেতনার বুলি আওড়ানো, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে ক্যাডারভিত্তিক সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের নোংরা চেষ্টা করা—এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে এ ধরনের জঘন্য দ্বিচারিতা দেশের সচেতন শিক্ষার্থীসমাজ ও সাধারণ জনগণের কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান ও হুঁশিয়ারি:

কেন্দ্রীয় সভাপতি অবিলম্বে মাদারীপুরের হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে সন্ত্রাস, লেজুড়বৃত্তিক দখলদারিত্ব ও সহিংস রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

​তিনি স্পষ্ট করেন যে, “হামলা, ভয়ভীতি কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনো আদর্শিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যায় না। বরং এসব লেজুড়বৃত্তিক কর্মকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কথিত শান্তিবাদীদের প্রকৃত সন্ত্রাসী রূপ জনসম্মুখে উন্মোচন করে।”

অধিবেশনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই ষান্মাসিক অধিবেশনে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—

​কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান ও ইমরান হোসাইন নূর।

​সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।

​প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন।

​প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম।

​অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ শোভন।

​কওমি মাদরাসা সম্পাদক বি.এম মাহদী আল-হাসান।

​কার্যনির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন ফজলেসহ কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যবৃন্দ।