টিএসসিতে ছাত্র রাজনীতির নতুন রূপরেখা: ছাত্রদল-শিবির-ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সংলাপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে “জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস” পালিত হয়েছে।

Jul 18, 2026 - 21:32
 0  7
টিএসসিতে ছাত্র রাজনীতির নতুন রূপরেখা: ছাত্রদল-শিবির-ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সংলাপ
×

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা ও রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের সকল স্তরের মানুষকে বহুমাত্রিক ও বহুরৈখিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির প্রচেষ্টা বা একক কোনো দলের প্ল্যান ছিল না; বরং এটি ছিল বহু চিন্তা, বহু মত ও ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের মানুষের সম্মিলিত রাজপথের লড়াই ও মহৎ অর্জন। জুলাই আজ সবার জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করেছে, তাই এই চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও সবার।

​আজ ১৮ জুলাই (২০২৬) শনিবার “জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস” উপলক্ষে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মাঠে দিনব্যাপী নানা বৈচিত্র্যময় ও সংবেদনশীল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

দিনব্যাপী বহুমাত্রিক কর্মসূচি:

টিএসসি প্রাঙ্গণে সকাল দশটা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলে জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলোর ওপর বিশেষ ‘ফটো এক্সিবিশন’ বা আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এরপর দুপুর দুইটা থেকে “এই সংসদ বিশ্বাস করে, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কেবল স্মরণে নয়, নীতিনির্ধারণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত” শীর্ষক একটি উদ্দীপনাপূর্ণ ও যুক্তিভিত্তিক ‘গণবিতর্ক’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র রাজনীতির প্যাটার্ন নিয়ে বহুদলীয় আলোচনা:

বিকাল সাড়ে তিনটায় ছাত্র নেতৃবৃন্দের সরাসরি অংশগ্রহণে “জুলাই পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির প্যাটার্ন: মত ও মতান্তর” শীর্ষক একটি বিশেষ মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন:

​জাহিদ আহসান (সভাপতি, জাতীয় ছাত্রশক্তি)।

​আনিসুর রহমান অনিক (১ নং সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)।

​খায়রুল আহসান মারজান (সিনিয়র সহ-সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ)।

​কাজী আশিক (সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্র শিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)।

​সাদমান আব্দুল্লাহ (সভাপতি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)।

​আব্দুল কাদের (সমন্বয়ক ও শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।

জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্যানেল ডিসকাশন:

বাদ আসর জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: অর্জন-অপূর্ণতা ও রাজনৈতিক বিভাজন” শীর্ষক মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ, ঢাবির হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক ফাহিম মাশরুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান।

আলোচকদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য:

মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে প্রধান ও দৃশ্যমান অর্জন হলো সমাজের বুকে একটি ভয়মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া। তবে কষ্টের বিষয় ও অপূর্ণতা হলো, ইতিহাসের পাতায় রেফারেন্ডাম বা গণভোট বাস্তবায়িত না হওয়ার একমাত্র নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে এই জুলাই রেফারেন্ডাম।”

​অন্যদিকে প্রখ্যাত রাষ্ট্রচিন্তক শাইখ মুসা আল হাফিজ তাঁর বক্তব্যে তরুণদের তাগিদ দিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের বিপ্লবকে কোনো অপশক্তির স্বার্থে মাঝপথে থামতে দেওয়া যাবে না। বরং তরুণের বহুবিধ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে সমাজে নিরন্তর জারি রাখতে হবে।”

​অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন উপস্থিত সকল ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক ও সুধী সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।