গুমের তদন্তভার পুলিশকে দিলে তা সুরাহাহীন অপরাধে পরিণত হবে: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় গুমের তদন্তভার পুলিশকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের দাবি দলটির।

Aug 4, 2026 - 20:45
 0  1
গুমের তদন্তভার পুলিশকে দিলে তা সুরাহাহীন অপরাধে পরিণত হবে: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
×

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও জোরালো আপত্তি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মতে, গুমের মতো জটিল রাষ্ট্রীয় অপরাধের তদন্তভার পুলিশের হাতে থাকলে তা আগের মতোই একটি ‘সুরাহা অযোগ্য’ অপরাধে পরিণত হবে।

​আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ দাবি ও আপত্তি তুলে ধরেন।

​বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “গুম একটি সঙ্গীন ও গুরুতর রাষ্ট্রীয় অপরাধ। সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ বা তাদের বিশেষায়িত শাখাগুলোর মাধ্যমেই গুমের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়ে থাকে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য সামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়। ফলে গুমের অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব না দিলে ভুক্তভোগীরা কখনোই প্রকৃত প্রতিকার পাবেন না।”

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পূর্ব জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে অনুমোদিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় উল্টো তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের কাছে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

​'আইনের ভালো ধারাগুলো কার্যকর হওয়া নিয়ে সংশয়'

​ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও মন্তব্য করেন, “প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইনে বেশ কিছু ভালো ধারা যুক্ত করা হয়েছে সত্য, তবে সেসব ধারা কার্যকর হতে হলে তো ঘটনাটি আদৌ ‘গুম’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হবে! কিন্তু পুলিশের কাছেই যদি তদন্তের পুরো ক্ষমতা থাকে, তবে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোর কারণে কোনো ঘটনাকে ‘গুম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠাই করা সম্ভব হবে না।”

মতামতের জন্য মাত্র একদিন সময় ও তড়িঘড়ির সমালোচনা

​আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “এরকম একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতের জন্য অন্তত দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া উচিত ছিল। সরকারের নিজ উদ্যোগেই ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিস্তর আলোচনা দরকার ছিল। তা না করে তড়িঘড়ি অনুমোদন দেওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এতে মনে হচ্ছে, সরকার ভবিষ্যতে গুমের পথ খোলা রাখতে চাইছে।”

​উক্ত সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ছাড়াও সংগঠনটির যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।