ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘাত-সহিংসতার তীব্র নিন্দা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের, সন্ত্রাসী রাজনীতি বন্ধের দাবি
দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী রাজনীতি বন্ধের দাবি জানান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
দেশের প্রধান প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘটিত হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংস পরিবেশের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সাথে ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসী রাজনীতি চিরতরে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে এক যৌথ যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে ঢাকা কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলামসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হলে নেতাকর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “শিক্ষাঙ্গন মূলত জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সুস্থ রাজনৈতিক বিকাশের পবিত্র স্থান। সেখানে হামলা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও অস্ত্রের ঝনঝনানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক মারমুখী কর্মকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ভিন্নমতকে যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে মোকাবিলা না করে পেশিশক্তি প্রদর্শন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
তারা আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও মতপ্রকাশের উন্মুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে চরম হতাশ করেছে। অতীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার ছিল, তাদের কাছে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এখন সেই একই ধরনের আধিপত্যবাদী ও সহিংস আচরণের পুনরাবৃত্তি আমাদের গভীরভাবে চিন্তিত করছে।”
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৩ দফা দাবি ও আহ্বান
১. সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার: দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত সব ধরনের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. পেশিশক্তি বন্ধ: সন্ত্রাস, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হলের রুম দখল ও অস্ত্রের জোরে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের সব ধরনের অপচেষ্টা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৩. সহনশীলতার আহ্বান: ক্যাম্পাসে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখতে সব ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


