যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নিহত ৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার পরদিনই গাজায় পৃথক দুটি ড্রোন হামলায় ৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ার ঘোষণার মধ্যেই পৃথক দুটি ড্রোন হামলা চালিয়ে তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী রূপরেখা বাস্তবায়নে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় এ হামলা চালাল ইসরায়েল।
‘বোর্ড অব পিস’ গত কার্যদিবসে নিশ্চিত করেছিল যে, হামাস পূর্ণাঙ্গ শান্তি রোডম্যাপে সম্মতি প্রদান করেছে। তবে এই শান্তি চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জোড়া ড্রোন হামলার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবারের সর্বশেষ হামলায় মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক বাড়ির উঠানে সরাসরি আঘাত হানে ইসরায়েলি ড্রোন। এতে ঘটনাস্থলেই এক ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন।
এর আগে, গাজা শহরের শেখ রাদওয়ান এলাকায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের একটি বেসামরিক জমায়েত লক্ষ্য করে আরেকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেখানে ইসরায়েলি ড্রোনের আঘাতে ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
সংবাদ সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ আল-আকসা মার্টার্সসহ অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও মোট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী থাকা সত্ত্বেও গত অক্টোবর থেকে চালানো ধারাবাহিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এতে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ এবং পুরো উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


