পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ভাঙচুর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কবরস্থানে তাণ্ডব চালাল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১২০ বছরের প্রাচীন বাড়ি; গাজায় নতুন হামলায় ২ ফিলিস্তিনি নিহত।
ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা পশ্চিম তীরের তাল গ্রামের কাছে মিছিলের নামে ফিলিস্তিনিদের একটি কবরস্থানে তাণ্ডব ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সময়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চুক্তি লঙ্ঘন করে পরিচালিত পৃথক দুটি ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা জানান, উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় কবরস্থানে তাণ্ডব চালায়। এ সময় তারা মৃত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক, এপিটাফ ও মার্বেল পাথরের তৈরি বিভিন্ন ধর্মীয় কাঠামো ভেঙে চুরমার করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তাণ্ডব চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে সরাসরি কভার দিচ্ছিল। ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা স্বজনদের কবর রক্ষায় প্রতিবাদ করতে গেলে ইসরায়েলি সেনারা তাদের ওপর বিষাক্ত কাঁদানে গ্যাসের শেল ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
১২০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস
একই তাণ্ডবের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী ১২০ বছরের পুরোনো একটি প্রাচীন বসতবাড়ি ভারী বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের যে কালো ইতিহাস ('নাকবা' বা চরম বিপর্যয়) শুরু হয়, তারও প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এজে প্লাস (AJ+)-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও হাজার বছরের প্রাচীন আরবি সংস্কৃতি মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি ধ্বংস করা হয়েছে।
শান্তি আলোচনার মাঝেই গাজায় ফের হামলা ও শিশু গুলিবিদ্ধ
‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বা আন্তর্জাতিক শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাস অস্ত্র সমর্পণের রূপরেখায় নীতিগত সম্মতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাজা উপত্যকাজুড়ে ফের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
মধ্য গাজার প্রধান সংযোগ সড়ক ‘সালাহ আল-দিন’-এ ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া গাজা শহরের সাবরা এলাকায় সরাসরি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও এক ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানিয়েছে, রামাল্লার আল-মুঘাইয়্যির গ্রামে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ছোঁড়া গুলিতে ১০ বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশু পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এছাড়া নাবলুসের খাওয়ার্তা চেকপোস্টে এক ২২ বছর বয়সী যুবককে ইসরায়েলি সেনারা নির্মম প্রহার ও শারীরিক নির্যাতন চালায়, যাকে পরে রেড ক্রিসেন্ট উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নাবলুসের তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহতের পর থেকেই পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে রাতভর ব্যাপক গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে দখলদার বাহিনী।


