উন্নয়নকে ভোটের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জামায়াতের
কোনো অঞ্চলের উন্নয়নকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোট বা আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
কোনো অঞ্চলের সুষম উন্নয়নকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোট বা আনুগত্য প্রকাশের শর্ত হিসেবে যুক্ত করা অনুচিত এবং তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।
গত ৯ আগস্ট রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) রাতে রংপুর জেলা কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রংপুর মহানগর জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে (জাতীয় পার্টি বা জামায়াত) ভোট দেওয়ার কারণে অঞ্চলটি উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তাঁর এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর মাধ্যমে রংপুরবাসীর সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতাকে খাটো করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মন্ত্রীর বিতর্কিত উক্তিটি ছিল:
“যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?”
জামায়াতের সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক দল পছন্দের অধিকার দিয়েছে। ‘উন্নয়ন পেতে হলে ক্ষমতাসীন দলকেই ভোট দিতে হবে’—এমন ধারণা বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখে। জনগণের রাজনৈতিক পছন্দের ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন থমকে রাখা বা বৈষম্য করা কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হতে পারে না।
রংপুর অঞ্চলের বঞ্চনা নিরসন ও একাধিক দাবি
সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরা হয়:
বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন নিশ্চিত করা।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নসহ অঞ্চলটির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং রংপুর অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ন্যায্য অধিকার প্রদানের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


