ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় না জমিয়ত
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় না জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। প্রেস ক্লাবের এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সাথে দলটি জোর দিয়ে বলেছে, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের যেমন ঘোর বিরোধী, ঠিক তেমনি মার্কিন কোনো প্রভাব বা আধিপত্যবাদও মেনে নেবে না।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এসব কথা বলেন।
মাওলানা ইউসুফী বলেন, “আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা যেমন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, তেমনি মার্কিন বা ওয়াশিংটনকেন্দ্রিক আধিপত্যবাদেরও বিরোধী। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে আমরা বাংলাদেশের নিরপেক্ষ বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই, কোনো অবস্থাতেই প্রভু হিসেবে নয়। দেশের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির সার্বভৌম প্রভাব প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারী জালেমের বিরুদ্ধে দেশের সকল মজলুম জনতার ন্যায়সংগত সংগ্রাম। এ আন্দোলনের মূল চেতনাই ছিল ন্যায়বিচার, গণমানুষের মৌলিক অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই স্পিরিট বাস্তবায়নে সব ভেদাভেদ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সর্বজনীন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
সভায় উপস্থিতি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা মুসা আল হাফিজ। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী মহাসচিব মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ প্রবীণ আলেম-উলামাগণ।


