গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে: মাওলানা মামুনুল হক

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

Aug 1, 2026 - 18:34
 0  4
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে: মাওলানা মামুনুল হক
×

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সার্বিক বাস্তবতা এবং আপামর জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই ইসলামী শক্তির মূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরে মজলিস মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, “গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং মূল সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে এ আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও জোরদার করা হবে।”

​আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫–২০২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩য় অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

​মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, “আমাদের কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেন চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দুর্বল না করে এবং জাতীয় ঐক্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না করে—সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

​একই সাথে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের (ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন) নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। যোগ্য, সৎ ও জনস্বার্থে নিবেদিত প্রাক-নির্বাচনী প্রার্থী চূড়ান্ত করে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান খেলাফত আমীর।

গৃহীত ঐতিহাসিক ৯ দফা প্রস্তাবনা

​অধিবেশনে সার্বিক রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে ৯ দফা প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়:

​সাংবিধানিক পরিবর্তন: সংবিধানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতি পুনঃস্থাপন এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সকল আইন ও নীতিকে অকার্যকর করার সাংবিধানিক বিধান যুক্ত করা।

​ধর্মীয় অনুভূতি সুরক্ষা: মহান আল্লাহ, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

​ফিলিস্তিন সংকট: গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং ভারতে মুসলিম নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ।

​কাদিয়ানী প্রসঙ্গ: কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা।

​সীমান্ত নিরাপত্তা: সীমান্তে বিএসএফের বেআইনি পুশ-ইন বন্ধে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো।

​আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

​উম্মাহর ঐক্য: ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।

​রাজনৈতিক অধিকার: হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।

উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

​অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর এবং মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী।

​এছাড়া সাংগঠনিক, দাওয়াতি, বায়তুলমাল, যুব ও ছাত্র বিষয়ক বিষয়ের বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, যুব মজলিস সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং খেলাফত ছাত্র মজলিস সভাপতি আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।