আমরা সবাই বাংলাদেশি, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের সকলের মূল পরিচয় 'বাংলাদেশি' বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, সবাই অধিবাসী বলেও জানান তিনি।
ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সীমানায় বসবাসকারী সকল মানুষের একটিই মূল রাষ্ট্রীয় পরিচয়—‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’। এই ভূখণ্ডে পৃথক কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই; আমরা সকলেই বাংলাদেশের ‘অধিবাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌম সীমানায় বসবাসরত প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত সমঝোতার দলিল 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে—বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের একক পরিচয় হবে 'বাংলাদেশি'। এই অখণ্ড জাতীয় ঐক্যই আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান ভিত্তি।”
অনগ্রসর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সুরক্ষার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার অধিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক, ধর্মীয় ও অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও বিকাশে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের জাতীয় মূলধারার সাথে সমতায় আনতে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বহাল রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত। বিশ্বজুড়ে বহুজাতিক ও বহুভাষী বহু রাষ্ট্রে শত শত ভাষা থাকলেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি; বরং অনগ্রসরদের বাড়তি সুযোগ দিয়ে মূলধারায় আনা হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক সনদ ও বাংলাদেশের অবস্থান
জাতিসংঘের ২০০৭ সালে গৃহীত ‘ইনডিজিনাস পিপলস’ (UNDRIP) সনদের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের ওই সনদের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল। এই আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন কিংবা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।”


