‘ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না, ভাবছি অন্য শহরে চলে যাব’: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

ঢাকার ভয়াবহ বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে জবাবদিহির তাগিদ।

Jun 6, 2026 - 18:32
 0  3
‘ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না, ভাবছি অন্য শহরে চলে যাব’: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
×

রাজধানী ঢাকার লাগামহীন বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ অত্যন্ত ভয়াবহ এবং উদ্বেগজনক আকার ধারণ করায় এই মেগাসিটিকে আর কোনোভাবেই মানুষের বাসযোগ্য মনে হয় না বলে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দূষণের এই চরম দমবন্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজেই ইদানীং ঢাকা ছেড়ে দেশের অন্য কোনো সুপরিসর ও পরিচ্ছন্ন শহরে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন বলে অকপটে স্বীকার করেছেন।

​আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (DSCC) আয়োজিত পরিবেশ ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ উদ্যোগ ‘দক্ষিণের জানালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের মনের এই সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট বনাম বাসযোগ্যতা:

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "বিগত বছরগুলোতে ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার চোখধাঁধানো মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সাধারণ নগরবাসী তার থেকে আদতে কতটুকু টেকসই সুফল বা সুস্থ জীবন পেয়েছে, তা এখন গভীরভাবে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যেকোনো নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগেই পরিবেশ ও নাগরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে এগোনো অত্যন্ত প্রয়োজন। কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন ছাড়া শুধু ইট-পাথরের উন্নয়ন দিয়ে কখনো আদর্শ নগরী গড়া সম্ভব নয়।"

​তিনি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "আজকাল আমার নিজেরই ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যে, আমি আর এই দূষিত ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য কোনো মফস্বল বা শান্ত শহরে গিয়ে শান্তিতে বসবাস করব। কারণটা অত্যন্ত স্পষ্ট— এটি আর মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মতো বাসযোগ্য শহর মনে হয় না।"

ধ্বংসের মুখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দূষিত বাতাস:

নগরীর বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় সেবা খাতের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আজ আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে বাতাসটি ফুসফুসে গ্রহণ করছেন, সেটাও মারাত্মকভাবে দূষিত ও বিষাক্ত। আপনি যদি ঢাকা শহরের যেকোনো একটি সরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার জন্য যান, তবে সেখানে দুর্গন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণে সুস্থ মানুষের ঢোকাই দায়। প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা থেকে যদি আমরা দ্রুত বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি— তবে আধুনিক নগরীর যে স্বপ্নের কথা আমরা প্রতিনিয়ত কাগজে-কলমে বলছি, সেগুলো শুধুই অধরা স্বপ্ন থেকে যাবে। কারণ, দিনশেষে আমরা কি সত্যিই বুক ভরে এক ফোঁটা মুক্ত ও বিশুদ্ধ বাতাস নিতে পারছি?"

নীতিনির্ধারকদের কঠোর জবাবদিহির তাগিদ:

মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থ ও রোগমুক্তভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অবিলম্বে ‘বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিতকরণ’ এবং ‘বাসযোগ্য শহর গড়ার’ সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, এ ধরনের সুস্থ পরিবেশবাদী উদ্যোগ সাধারণ নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে আলোড়িত ও সচেতন করবে।

​তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "শহর সুন্দর রাখতে শুধু সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। যারা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনার মূল দায়িত্বে আছেন এবং বড় বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছেন, তাদের কাজের প্রতিটি পাই-পানির কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।"

​সিটি করপোরেশনের স্বায়ত্তশাসন ও দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার কাঠামোর একটি সম্পূর্ণ স্বশাসিত ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত ও আধুনিক নগরগুলো মূলত নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। তাই আমাদের দেশের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও গভীর চিন্তা, খাঁটি দেশপ্রেম ও পেশাদার দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।"