নেত্রকোনা সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা: প্লাবিত অন্তত ৪০ গ্রাম

ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও মাছ ভেসে গেছে।

Jul 20, 2026 - 19:41
 0  3
নেত্রকোনা সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা: প্লাবিত অন্তত ৪০ গ্রাম
×

অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা উজান পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। সীমান্তঘেঁষা নদ-নদী দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ি পানি প্রবেশ করায় ইতিমধ্যে দুই উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

​আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানির তোড়ে সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং অসংখ্য পুকুরের পাড় ভেসে গিয়ে মৎস্য খামারিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্লাবিত এলাকা ও যোগাযোগের হালচাল:

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র জানায়, কলমাকান্দার খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে উজান থেকে তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করছে। পানির তীব্র চাপে খারনই ইউনিয়নের কলমাকান্দা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কটি প্রায় ২০টি স্থানে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানির তোড়ে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​অন্যদিকে, দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্ধঊশানসহ অন্তত ৫-৬টি গ্রাম নেতাই নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।

জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য:

​খারনই ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক: “মংলেশ্বরী নদ দিয়ে রাত থেকে প্রচণ্ড বেগে পাহাড়ি ঢল নামছে। পানির তীব্রতায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, অনেক মানুষের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং খামারিদের পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করেছি।”

​রংছাতি ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান খান পাঠান: “মহাদেও নদ দিয়ে আসা পাহাড়ি পানিতে কয়েকটি গ্রামের নিম্নবিত্ত মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”

​লেঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া: “গণেশ্বরী নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।”

নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা ও পাউবো’র বক্তব্য:

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে জেলার সব কটি সীমান্ত নদীর পানি উফচে উঠছে। কলমাকান্দার উপদাখালী নদীর পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি:

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, “পাহাড়ি ঢলের তথ্য পেয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম খারনইসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আকস্মিক এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”