হামাসের প্রধান হলেন খলিল আল-হাইয়া
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নতুন প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি শহীদ ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে খলিল আল-হাইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শহীদ হওয়া শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে হামাসের পক্ষ থেকে নতুন শীর্ষ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
ধারাবাহিক নেতৃত্ব সংকটের পর হাল ধরলেন হাইয়া:
গত বছর ইরানের তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ, গাজায় শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সামরিক কমান্ডার প্রধান মুহাম্মদ দেইফ শহীদ হওয়ার পর থেকে সংগঠনটির ভেতরে অভিজ্ঞ নেতা খলিল আল-হাইয়ার গুরুত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।
টানা শীর্ষ নেতাদের শাহাদাতের ফলে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ এবং গাজায় চলমান যুদ্ধকালীন জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। নতুন এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী শাখার সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:
জন্ম ও শুরু: ১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্ম নেওয়া খলিল আল-হাইয়া ১৯৮৭ সালে গঠিত হওয়ার সূচনালগ্ন থেকেই হামাসের মূলধারার রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
অভিজ্ঞতা: দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বর্ষীয়ান এই নেতাকে এমন এক সময়ে সংগঠনের ব্যাটন হাতে নিতে হলো, যখন পুরো গাজা উপত্যকা ভয়াবহ সংঘাত, সামরিক অভিযান এবং অভূতপূর্ব মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে হামাসের প্রতিনিধিত্ব করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্ব বর্তমান ফিলিস্তিন সংকটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা


