বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যানের মৃত্যু

ভারতের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্তে গঠিত লিবরহান কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং লিবরহান ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন।

Aug 3, 2026 - 17:00
 0  4
বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যানের মৃত্যু
×

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্তে গঠিত বহুল আলোচিত ‘লিবরহান তদন্ত কমিশন’-এর চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং লিবরহান (এম. এস. লিবরহান) আর নেই।

​গতকাল রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) ভারতে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী বিচারপতি লিবরহান হরিয়ানার আম্বালায় একজন তরুণ আইনজীবী হিসেবে নিজের আইন পেশা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি চণ্ডীগড়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। শুরুতে ‘মনমোহন সিং’ নামে পরিচিত হলেও একই নামের একাধিক আইনজীবী থাকায় পরবর্তীতে তিনি নিজের পারিবারিক পদবি ‘লিবরহান’ ব্যবহার করা শুরু করেন।

​১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ভারতজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পি. ভি. নরসিমা রাও সরকার ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি একক সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং বিচারপতি লিবরহানকে এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।

​মূলত ৩ মাসের মধ্যে (১৯৯৩ সালের মার্চ) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ৪৩ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর অনুসন্ধানের পর ২০০৯ সালের ৩০ জুন ভারতীয় সরকারের কাছে ১ হাজার পাতাব্যাপী চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এই কমিশন। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একাধিক সরকারের পতন ও ক্ষমতার রদবদল ঘটলেও কমিশনের কাজ থামেনি। তদন্তকালীন সময়ে ২০০১ সালে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি কমিশনের মুখোমুখি হয়ে ওই ঘটনাকে "চরম বেদনাদায়ক" বলে আখ্যা দেন।

​২০০৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাষী এই বিচারক প্রকাশ করেন, এই মামলার বিপুল গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি অযোধ্যা সংক্রান্ত সমস্ত মূল নথি ও সাক্ষ্য নিজ হাতে ১৬ বার রিডিং পড়েছিলেন।

বর্ণাঢ্য বিচারিক জীবন

​মনমোহন সিং লিবরহান হরিয়ানার অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তীতে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মনে করতেন—“একজন বিচারকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ রায়ের মাধ্যমে, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা বক্তৃতার মাধ্যমে নয়।”