জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর যাওয়ার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
তবে দেশে ফিরলেও একই সঙ্গে জটিল রাজনৈতিক ও কঠিন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে দেউবাকে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি (Gen-Z) তরুণদের তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাসভবনে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থপাচার অনুসন্ধানের ভিত্তি তৈরি করে। এর মাঝে গত বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত এক বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁকে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও অপসারণ করা হয়।
চলমান অর্থপাচার মামলার অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দেউবা এবং তাঁর পরিবারে সম্পত্তি ও সমস্ত ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেউবা ও তাঁর স্ত্রী—সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এমনকি বিদেশে অবস্থানকালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির চাহিদাও জানিয়েছিল নেপাল সরকার। তবে গত ২৫ মে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করলে দেউবার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।
অন্যদিকে, দেউবার স্ত্রী আরজু দেউবা এবং পুত্র জয়বীর এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন। আন্দোলন চলাকালে আহত হওয়ার পর চিকিৎসার অজুহাতে তাঁরা দেশ ছাড়লেও এত দীর্ঘ বিদেশবাস নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের হংকং ও সিঙ্গাপুরে ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে চলমান অর্থপাচার তদন্তের মুখে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী বিদেশযাপন ও বিপুল চিকিৎসার খরচের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দেউবার উপস্থিতিতে নেপালি কংগ্রেসে তাঁর অনুসারী অংশটি পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠলেও, নতুন সরকারের অধীনে অর্থপাচার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


