জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্ধ থাকা তিনটি পাটকল বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার চুক্তি অনুষ্ঠানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ করে একটি রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি জানান, জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুটি শিল্পগ্রুপের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে। উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে একদিকে যেমন মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হবে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন একটা দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সব নাগরিক বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও ভালো ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।”
বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পে জোর
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার গুরুত্ব স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই চায়। তবে তার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে পাটকলগুলোর দায়িত্ব নেওয়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরে লাভজনক হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিজেএমসি ও লিজ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


