আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব

দীর্ঘ দায়িত্ব পালন শেষে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানিয়ে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

Aug 14, 2026 - 07:05
 0  16
আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব
×

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্র এবং ঢাবি শাখার দীর্ঘ দায়িত্ব সামলানোর পর নতুন কমিটিকে সাদরে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

​বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠক শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

​বিদায়ী বার্তায় তিনি লেখেন, "মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট লাখো কোটি শুকরিয়া, অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে সুযোগ প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"

​তিনি বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সংসদ, দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মহানগরীসহ সকল জেলা-কলেজ ইউনিটের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

​নিজ নেতৃত্বের সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমার নেতৃবৃন্দের নিয়ে আমি আমৃত্যু গর্বিত, কারণ তাঁদের নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হতে হয়নি। প্রচণ্ড আর্থিক টানাপড়েনের মাঝেও তাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাধারণ কর্মীদেরও সততার নীতিতে অনুপ্রাণিত করেছেন।"

​ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, "ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি বিকাশের চেষ্টা করেছি। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা যেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন, সে ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেকোনো দরকারে আসলে আমি তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।"

​জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করে তিনি জানান, "রাকিব-নাসির কমিটির মূল সফলতা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সমন্বয় করে বীরোচিত ভূমিকা পালন করা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ‘মব’ সামলানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইবার বুলিং মোকাবিলা করেও আমরা রাজপথে ছিলাম।"

​জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার কথা জানিয়ে বিদায়ী এই ছাত্রনেতা লেখেন, "একটি নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। পরিশেষে, ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন—এই প্রত্যাশা রইল।"