​সৌদির নেতৃত্বে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের সুরক্ষা এবং জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

Jul 31, 2026 - 16:41
 0  3
​সৌদির নেতৃত্বে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ
×

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বহুজাতিক বাণিজ্য তরান্বিত ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই সমুদ্রপথ সুরক্ষায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন গঠিত এ জোটে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

​গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (Multinational Maritime Defense Alliance) গঠনের বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

​জোটভুক্ত দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংক্ষিপ্ততম ও অতিগুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নিরবচ্ছিন্ন রাখা এ সামরিক জোটের প্রধান অগ্রাধিকার।

হরমুজ সংকট ও হুথি হামলা: কেন এ উদ্যোগ?

​ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। হরমুজ দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি চরম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব ও এডেন উপসাগরে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় এ আন্তর্জাতিক রুটটিও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

​এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আহ্বানে আয়োজিত নিরাপত্তা বৈঠকে ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

জোটের ১৪ সদস্য রাষ্ট্র

​সৌদি আরব ছাড়া গঠিত জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়া অন্য ১৩টি দেশ হলো:

​বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।

​আঞ্চলিকভাবে সমান স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও আরব আমিরাত ও ওমান প্রথম দফায় এতে অংশ নেয়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে যেকোনো দেশের জন্য এই জোটে যুক্ত হওয়ার দরজা উন্মুক্ত থাকবে।

সদর দপ্তর ও কর্মপরিধি

​রিয়াদ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এই জোটের মূল সমন্বয় কেন্দ্র বা সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। তাৎক্ষণিকভাবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা টহল বিমান মোতায়েন করবে তা চূড়ান্ত না হলেও, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় (Intelligence Sharing), সমন্বিত সামরিক পরিকল্পনা, যৌথ নৌ-মহড়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

​মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এবং লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রুটে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বিশ্ববাজারে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।