ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গেছেন বলে দাবি করেছেন সিনেটর ক্রিস মারফি। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ততই দুর্বল হচ্ছে এবং ইরানের শক্তি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Aug 10, 2026 - 13:36
 0  3
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর
×

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সামরিক লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হেরে গেছেন বলে কড়া মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলের জ্যেষ্ঠ সিনেটর ক্রিস মারফি।

​তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান ও প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

​গত রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্রিস মারফি এসব মন্তব্য করেন।

​সাক্ষাৎকারে মারফি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাস্তবতা হলো আমেরিকা দুর্বল হচ্ছে আর ইরান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। প্রতিদিন এই যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যাকফুটে চলে যাবে এবং এর চরম খেসারত দিতে হবে সাধারণ মার্কিন জনগণকে।”

​তিনি আরও জানান, উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে প্রয়োজনে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করে হলেও অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্য পথ 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় খুলে দেওয়া উচিত। কারণ কূটনৈতিক আলোচনা থমকে থাকায় দিন দিন হরমুজ প্রণালি সচল করার মূল্যের চাপ বেড়েই চলেছে।

​ওয়াশিংটন টাইমসের তথ্য ও ক্ষতিপূরণের দাবি

​মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ থামাতে ইরান বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন সামরিক অভিযান চিরতরে বন্ধ করা।

যুদ্ধ বাজেটের বিরোধিতা ও মূল্যবৃদ্ধি

​সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে সিনেটর মারফি বলেন, “যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন।”

​তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন যে-ই হোক না কেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে অতিরিক্ত কোনো সামরিক অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব আনা হলে তিনি তার সরাসরি বিরোধিতা করবেন। তবে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি পূরণে বাজেট বরাদ্দে তিনি সমর্থন দেবেন।