সুদানে আদালতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩৫

সুদানের উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামে একটি আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় চার উপজাতীয় নেতা ও দুই আরএসএফ কমান্ডার নিহত হন।

Aug 3, 2026 - 12:58
 0  4
সুদানে আদালতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩৫
×

গৃহযুদ্ধকবলিত আফ্রিকান দেশ সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। একটি আদালতে মামলা শুনানি চলাকালে ওই ড্রোন হামলা চালানো হয়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’-এর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​সংগঠনটি জানায়, গতকাল রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামের একটি স্থানীয় আদালতে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় আদালতটিতে দুটি পক্ষের স্থানীয় জমি ও সামাজিক বিরোধ সম্পর্কিত মামলার বিচারকাজ চলছিল। ফলে সেখানে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, স্থানীয় গোত্র প্রধান ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমান থেকে ছোঁড়া ওই হামলায় চারজন প্রভাবশালী উপজাতীয় নেতা এবং দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)-এর দুজন আঞ্চলিক কমান্ডার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিস্ফোরণে ঐতিহ্যবাহী আদালত ভবনটিও ধসে পড়েছে।

​গারা আল-জাওয়ায়া গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে বেসামরিক স্থানে এই প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার বিষয়ে সুদান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্রমবর্ধমান ড্রোন যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়

​উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর (হেমেদতি) অনুগত বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়েছে। কেবল চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় ১ হাজারের বেশি নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

সংঘাতের কেন্দ্রে ঐতিহাসিক দারফুর

​উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘ বর্তমান সুদান সংকটকে বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও ভয়াবহ ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।