ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের নামে ধর্ম ও সমাজকে কলুষিত করা হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ট্রান্সজেন্ডার বিয়েকে সমাজ ও ধর্মীয় অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।

Jul 30, 2026 - 21:30
 0  3
ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের নামে ধর্ম ও সমাজকে কলুষিত করা হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
×

কথিত ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের মতো বিষয়গুলো হাজার বছরের পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক পুঁজি ও ধর্মীয় অস্তিত্বের ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। সমাজের ভিত্তিমূলক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে অবিলম্বে অভিভাবকের ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

​আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

​প্রকৌশলী আশরাফুল আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের হাজার বছরের সামাজিক বন্ধন, ধর্মীয় অনুভূতি এবং ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক জীবনধারাকে কলুষিত করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের বিকৃতির বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীরবতা সচেতন নাগরিক সমাজকে গভীর শঙ্কিত করে তুলেছে। মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় রোধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”

​'হিজড়া জন্মগত বিষয়, ট্রান্সজেন্ডার ইচ্ছাকৃত বিকৃতি'

​হিজড়া সমাজ ও ট্রান্সজেন্ডার ধারণার পার্থক্য স্পষ্ট করে বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “নারী ও পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে যারা জন্ম নেন, তা একটি বিরল জেনেটিক বিষয়। এ দেশের লোক সংস্কৃতিতে তারা ‘হিজড়া’ হিসেবে পরিচিত। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি, মানবিক অধিকার ও সামাজিক সম্মান রয়েছে। কিন্তু জন্মগত হিজড়া আর পশ্চিমা ট্রান্সজেন্ডার ধারণা কোনোভাবেই এক জিনিস নয়। একটা হলো জন্মগত অপূর্ণাঙ্গতা, অন্যটা হলো বিকৃত মানসিকতা ও ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা।”

​তিনি সতর্ক করে বলেন, “ট্রান্সজেন্ডার ধারণার প্রতি সরকারের উদাসীনতা বা নিরবতা প্রকারান্তরে এই ইচ্ছাকৃত অনৈতিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার নামান্তর, যা ভবিষ্যতে সাধারণ নারী ও পুরুষের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।”

​'পশ্চিমা এজেন্ডা ও অস্তিত্বের সংকট'

​বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলজিবিটিকিউ বা ট্রান্সজেন্ডার কেন্দ্রিক যাবতীয় মতাদর্শ ও রাজনৈতিক এজেন্ডার মূল উৎস পশ্চিমা বিশ্ব। এ রূপরেখা আমাদের মুসলিম প্রধান দেশের সমাজ, দেশীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।

​তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমা এসব অনৈতিক এজেন্ডা আমাদের সামাজিক অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ। কোনোভাবেই এ ধরনের মানসিক বিকৃতিকে প্রচ্ছয় দেওয়ার সুযোগ নেই। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সমাজের এই নৈতিক বিপর্যয় দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”