গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল কারিগর খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন ভূমিকা চিরস্মরণীয়।

Aug 15, 2026 - 13:44
 0  3
গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
×

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রকৃত ও মূল কারিগর হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​তিনি বলেন, "সুদীর্ঘ লড়াকু পথচলায় বিএনপি যেভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। আমরা তাঁর মহান আদর্শকে ধারণ করে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।"

​শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অপরিসীম ও অতুলনীয়। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনোই স্বৈরাচারের কাছে নত হননি। দেশনেত্রীর আজীবন ত্যাগ এবং আপসহীন সংগ্রামের কারণেই বাংলাদেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে। খালেদা জিয়ার আদর্শকে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে ধারণ করতে হবে।"

​সাবেক মহাসচিব আরও যোগ করেন, "বিএনপি যে আজ একটি সত্যিকার ও গণমানুষের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন দেশনেত্রী। তিনি দীর্ঘদিন দেশের মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং নিজের আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি; বরং দলকে আগলে রেখেছেন। তাঁর কাজ এবং প্রেরণা আমাদের রাজনৈতিক পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।"

​অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অর্জিত রাজনৈতিক ও নৈতিক সম্পদের ভাগ আমরা অনেকে পেলেও, চূড়ান্ত লড়াইয়ের মাঠে তিনি সবসময় সবাইকে পাশে পাননি। তাসত্ত্বেও তিনি কারো ওপর মনঃক্ষুণ্ন হননি। তিনি রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়ে সবাইকে আপন করে নিয়েছেন, সবার ভুল-অপরাধ ক্ষমা করেছেন। পাশাপাশি সবাইকে যোগ্য ও যথাযথ মর্যাদায় আসীন করেছেন।"

​তিনি আরও বলেন, "দেশনেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফসল হলো দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা নিশ্চয়ই দেশনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাষ্ট্র সংস্কারে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সুপরামর্শ দেবেন বলে আমরা আশা করি।"

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।