সাতক্ষীরায় ৯০ বছরের ঐতিহ্য: ৬ হাজার মানুষের বিশাল ইফতার আয়োজন
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনে ৯০ বছর ধরে রমজানে চলে বিশাল ইফতারের আয়োজন। প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করেন।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রাঙ্গণে রমজান মাসজুড়ে চলছে এক অনন্য ইফতার আয়োজন। গত ৯০ বছর ধরে চলে আসা এই আয়োজনে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন কেবল ইফতার নয়, বরং এক দীর্ঘকালীন ঐতিহ্যের অংশ।
ইফতার প্রস্তুতির বিশাল কর্মযজ্ঞ
প্রতিদিন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ইফতার তৈরিতে কাজ করেন প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি। ২৫ বছর ধরে প্রধান বাবুর্চির দায়িত্বে থাকা আমানত আলী জানান, প্রতিদিন ১৯০ কেজি ছোলা রান্না করা হয়। এছাড়া ১৪৪ কেজি সুজি, ১৫০ কেজি চিনি ও ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে প্রস্তুত করা হয় সাত ডেক ফিরনি।
সিঙ্গারা তৈরির কারিগর মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিদিন ১৮০ কেজি আলু ও ১৫৪ কেজি ময়দা দিয়ে বিশাল সংখ্যক সিঙ্গারা তৈরি করা হয়। ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টার মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হয়।
স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস সেবা
এই বিশাল আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। প্রতিটি প্লেটে খেজুর, কলা, চিড়া, ছোলা ও ফিরনি সাজিয়ে তা বিতরণ করা হয়। দুই দশক ধরে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, "পহেলা রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত এই সেবা দেওয়া আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের।"
ব্যয় ও অর্থায়ন
মিশনের সহকারী সম্পাদক ডা. আবুল ফজল জানান, প্রতিদিনের এই বিশাল আয়োজনে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দাতাদের অনুদানেই এই বিশাল ব্যয়ের অর্থ সংস্থান করা হয়।
ঐতিহ্যের ইতিহাস
জানা যায়, প্রখ্যাত সাধক খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ ১৯৩৫ সালে নলতায় এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে একসঙ্গে ইফতার করতেন। সময়ের বিবর্তনে সেই ক্ষুদ্র আয়োজন আজ হাজারো মানুষের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এখানে ইফতার করতে আসা আনসার আলী বলেন, "এখানে এলে এক অন্যরকম শান্তি লাগে। সবাই মিলেমিশে এক সুন্দর পরিবেশে ইফতার করি।"


