খাল পুনঃখননের পর অতিরিক্ত ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন ইউএনও

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে

Aug 17, 2026 - 21:22
 0  3
খাল পুনঃখননের পর অতিরিক্ত ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন ইউএনও
×

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 গত ১৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিকের উদ্যোগে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার কাটাখালী খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। ৩০ জুনের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খালটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষক, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হয়েছেন। বৃষ্টিতে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।

ইউএনও আসমা বিনতে রফিক বলেন, অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিতে সেচসুবিধা বাড়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছেন। খালে নৌকা চলাচল ও দেশি মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। কৃষিতে সেচসুবিধা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও উন্নতি হবে। অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।