দেশে ফুরিয়ে আসছে অকটেন-পেট্রোলের মজুত: জ্বালানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট; মাত্র ৮ দিনের অকটেন ও ১২ দিনের ডিজেল মজুত আছে দেশে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি তেলের মজুতে চরম টান পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাত্র ৮ দিনের অকটেন এবং ১২ দিনের ডিজেল মজুত অবশিষ্ট রয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি:
বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন, যা দিয়ে দৈনিক গড় চাহিদা অনুযায়ী মাত্র ১২ দিন চলা সম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা অকটেনের; বর্তমানে মাত্র ৯ হাজার ৮২৯ টন অকটেন মজুত আছে যা আগামী ৮ দিন পর শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া পেট্রোলের মজুত আছে ১১ দিনের এবং ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে ১৮ দিনের। বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মজুত দিয়ে পরবর্তী ২৪ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
সংকটের নেপথ্যে কারণ:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১. আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি: লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তজনা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত তেল আমদানিতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।
২. গ্যাস উৎপাদন হ্রাস: গত এক বছরে দেশে গ্যাসের উৎপাদন দৈনিক গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমেছে। গ্যাস উৎপাদন কমায় উপজাত হিসেবে পাওয়া 'কনডেনসেট' কমে গেছে, যা পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের প্রধান দেশীয় উৎস।
৩. সিন্ডিকেটের কারসাজি: পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, আগামী ১ তারিখে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেসরকারি শোধনাগারগুলো বিপিসিকে তেল দিচ্ছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন একে বাজারের 'ম্যানিপুলেশন' হিসেবে অভিহিত করে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত তেল আমদানিতেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


