ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে ৩৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে গত চার বছরে জব্দ হওয়া প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করেছে ১০ বিজিবি।

Jul 28, 2026 - 18:54
 0  3
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে ৩৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি
×

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর বিভিন্ন সফল অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর প্রশিক্ষণ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মাদক ধ্বংস করা হয়।

​বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার বছরে ৩৩ কোটি টাকার বিপুল চালান জব্দ

​বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিজিবির ধারাবাহিক ও বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে:

​গাঁজা: ১৭ হাজার ৩১১ কেজি

​ইয়াবা ট্যাবলেট: ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ পিস

​ভারতীয় হুইস্কি: ৪০ হাজার ৯৬৪ বোতল

​ইস্কাফ সিরাপ: ২৫ হাজার ২৭ বোতল

​ফেনসিডিল: ১০ হাজার ২৯৪ বোতল

​বিয়ার: ৯ হাজার ১৪৫ ক্যান ও বোতল

​অন্যান্য: বিপুল পরিমাণ মাদকজাত ট্যাবলেট এবং ৩০ হাজার ৫০ প্যাকেট ভারতীয় সিগারেট।

​বিজিবি বিএসআর (BSR) অনুযায়ী, ধ্বংস করা এসব আটককৃত মাদকের মোট আনুমানিক সিজার মূল্য দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৭২ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকা।

​'মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি বদ্ধপরিকর'

​মাদক ধ্বংসকরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাদক দেশের যুবসমাজ, পরিবার ও সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম বড় এক হুমকি। একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সীমান্তে কেবল শূন্য সহনশীলতার (Zero Tolerance) ভিত্তিতে পাচার প্রতিরোধই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।”

​তিনি আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ভবিষ্যতে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।