সরাইল রিজিয়নে দুই মাসে ২৫ পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

সরাইল রিজিয়নের ১,২০০ কিমি সীমান্তে গত দুই মাসে ২৫টি পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। কোটবাড়িতে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংসের উদ্বোধনীতে বিজিবি রিজিয়ন কমান্ডার এই তথ্য জানান।

Jul 29, 2026 - 12:21
 0  5
সরাইল রিজিয়নে দুই মাসে ২৫ পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি
×

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান ধরে রেখে গত দুই মাসে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ২৫টি পুশ-ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

​একই সাথে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

​গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) কুমিল্লার কোটবাড়িতে বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

তিন-চার বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ

​অনুষ্ঠানে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত নিজ নিজ বিএসআর ও বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে প্রবেশে 'জিরো টলারেন্স'

​মাদক ধ্বংস কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের যেকোনো অপচেষ্টা বিজিবি কঠোর হাতে প্রতিহত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত দুই মাসে আমাদের সরাইল রিজিয়নের অধীন সীমান্ত এলাকায় ২৫টি পুশ-ইনের ঘটনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, সবশেষ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদা নদী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করা চারজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিজিবির কড়া পাহারা ও প্রতিরোধের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ

​মাদকদ্রব্য বিনাশ ও ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

​কর্নেল রাকিবুল হাসান — সেক্টর কমান্ডার, কুমিল্লা বিজিবি

​রোজী আক্তার — জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা

​লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ — অধিনায়ক, ১০ বিজিবি

​মেজর সাদমান ইবনে আলম — কোম্পানি কমান্ডার, র‍্যাব-১১

​এ সময় বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।