কক্সবাজারে প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক ওমান প্রবাসীর বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতি ও তাঁর স্ত্রী এবং দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়। ৬ জন গ্রেপ্তার।

Jun 9, 2026 - 14:58
 0  8
কক্সবাজারে প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
×

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক ওমান প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র ডাকাতদল কেবল মালামাল লুটপাট করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্রবাসীর স্ত্রী এবং তাঁর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী কন্যাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৃশংসভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ (গণধর্ষণ) করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৬ জন কুখ্যাত ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

​গত সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকার ওই প্রবাসীর একাকী বাড়িতে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে।

গ্রিল কেটে প্রবেশ, অতর্কিত হামলা ও পাশবিকতা:

​স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি মুখোশধারী ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতদল সুপরিকল্পিতভাবে ওই প্রবাসীর বাড়ির পেছনের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন দামি মালামাল লুটে নেয়।

​লুটপাটের একপর্যায়ে ডাকাতদলটি ওই প্রবাসীর স্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে পৃথক কক্ষে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক ও সংঘবদ্ধ নির্যাতন (গণধর্ষণ) চালিয়ে রাত চারটার দিকে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর গুরুতর রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোররাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে কিশোরী:

​ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, “পাষণ্ড ডাকাতদল আমার বোন এবং ভাগ্নির ওপর চরম অমানুষিক ও পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। বর্তমানে আমার ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমরা এই পিশাচদের ফাঁসি চাই।”

​ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (ASP) অভিজিৎ দাশ এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত শুরু করে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসীর প্রতিরোধ ও পুলিশের ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার ৬:

​নৃশংস এই ঘটনার জানাজানি হলে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে পুরো পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত টানা যৌথ অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত ৬ জন ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ (বাকি একজনের নাম তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে)। গ্রেপ্তারকৃত যুবকেরা সবাই পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিহ্নিত অপরাধী ও বখাটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে দুপুরের দিকে জানান, “অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই স্পর্শকাতর মামলাটি আমরা ডিল করছি। ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমি নিজে এখনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করছি। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”