শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ ভাবছে মোদি সরকার: সোনিয়া গান্ধী

চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোদি সরকার তরুণ সমাজকে ‘দেশের শত্রু’ বানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। অপরদিকে গভীর রাতে ভিডিও বার্তায় ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Jul 24, 2026 - 15:43
 0  3
শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ ভাবছে মোদি সরকার: সোনিয়া গান্ধী
×

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষনেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সরকারের জবাবদিহির অভাব ও নির্মম আচরণের কারণে ভারতের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীরা আজ চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) এক বিশেষ বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “মোদি সরকার সমস্যা সমাধানের বা আলোচনার পথ পরিহার করে বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে যেকোনো প্রতিবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে আমরা এই একদলীয় মনোভাব দেখেছি।”

​‘শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন ক্ষমার অযোগ্য’

​সরকারের নীতি ও আচরণের সমালোচনা করে সোনিয়া গান্ধী আরও বলেন, “কিন্তু এবার মোদি সরকার নৈতিকতার দিক দিয়ে আরও এক ধাপ নিচে নেমেছে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা—যারা মূলত আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর, তাদের প্রতি ন্যূনতম সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখানোর বদলে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। সরকারের এই নিষ্ঠুর আচরণ শতভাগ ক্ষমার অযোগ্য এবং ভারতের মানুষ কোনোভাবেই এটি ভুলে যাবে না।”

​তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের অচল শিক্ষাব্যবস্থা, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার চর্চাই মূলত তরুণদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ক্ষোভ ও দাবি না শুনে তাদের ওপর বলপ্রয়োগের ফলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

যন্তর মন্তরে উত্তেজনা ও গভীর রাতে মোদির ভিডিও বার্তা

​দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিলে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরুরি ভিডিও বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আজ শুক্রবারই সরকারের পক্ষ থেকে বড় ও কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি।

​গভীর রাতের ওই ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বন্ধুরা, প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল কোনো সাধারণ অপরাধ নয়—এতে কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পিতা-মাতা চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন। গত আড়াই মাসে আমরা একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। জড়িত অপরাধীদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

​প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিল ও খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে কঠোর শাস্তির বিধান এবং অতি দ্রুত বিচারে 'ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত' গঠনের সুপারিশ রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই বিল চূড়ান্ত করে যত দ্রুত সম্ভব পার্লামেন্টে পাস করার তাগিদ দেওয়া হবে।