ভারতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নওগাঁয় মানববন্ধন
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নওগাঁয় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দমন-পীড়ন বন্ধ, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং বাংলাদেশেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংস্কারের দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন নওগাঁর শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টায় নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনের প্রধান সড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 'নওগাঁ ইয়ুথ ক্লাব'-এর সভাপতি ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রাহাদ হাসান আকাশের সভাপতিত্বে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে শতস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
‘উপমহাদেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বসন্ত শুরু হয়েছে’
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, “আমরা কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি না; বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকার, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি গভীর সংহতি জানাতেই আজ রাজপথে নেমেছি। ভারতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার বদলে রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “উপমহাদেশজুড়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে বসন্তের সূচনা হয়েছে, ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলন তারই এক অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতা। অবিলম্বে সে দেশে অন্যায়ভাবে আটক শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকেও সতর্ক করে বলতে চাই, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি ও যাবতীয় অনিয়ম দ্রুত সংস্কার করুন, যাতে মেধা, পরিশ্রম ও সততার যথাযথ মূল্যায়ন সুনিশ্চিত হয়।”
স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে মুখরিত রাজপথ
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির সপক্ষে বিভিন্ন আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: ‘উই স্ট্যান্ড উইথ ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’, ‘পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি’ ইত্যাদি।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জোর গলায়—‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীর ওপর সহিংসতা, বন্ধ করো করতে হবে’, ‘জাস্টিস ফর ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।


