গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে শাহবাগে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
জনগণের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা বা সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (এমপি)।
তিনি বলেছেন, “পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণভোটে জনগণ যে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, তা পাশ কাটিয়ে সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করা হবে আর অন্যটি প্রত্যাখ্যান করা হবে—এমন দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহবাগে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে, আজ বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, পদত্যাগের মধ্য দিয়েই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জবাবদিহি শেষ হতে পারে না; অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
‘ঐতিহাসিক গণহত্যার বিচার ও সরকারের গাফিলতি’
রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অভিযান চালানোয় নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো ধামাচাপা পড়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পাশে যেভাবে দাঁড়ানোর কথা ছিল, সেই প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জনগণের রায়কে অপমানের প্রতিবাদেই তাঁরা সংসদ থেকে সম্প্রতি ওয়াকআউট করেছেন। সমাধান না হলে রাজপথের আন্দোলন ও জনগণই গণতান্ত্রিক উপায়ে এর ফয়সালা করবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না, আবার অন্য কারও হস্তক্ষেপও বরদাস্ত করবে না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, “জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
সম্মেলনে শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য
ঢাকা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আফজাল হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন:
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি): “শপথের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়ার চক্রান্ত ব্যর্থ করা হবে।”
সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি): “বর্তমান শাসনব্যবস্থায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়; সমাজ পরিবর্তনে জামায়াতকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি): “দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ একটি ফরজ দায়িত্ব। গণমুখী চরিত্র ও সৎ আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে হবে।”
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন, অ্যাডভোকেট মসিউল আলম, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা ও ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ৮টায় মাওলানা আব্দুস সালামের দারসুল কুরআনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ঢাকা জেলার বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা রুকন অংশ নেন।


