পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছেছে; বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন স্পিকার।
ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলে তাঁর ইস্তফাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছেছে।
সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন।
‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’
এদিকে পদত্যাগের সত্যতা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার দুপুরে একটি শীর্ষস্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান (আমি অসুস্থ, তাই এটি সম্পন্ন হয়েছে)।”
ইস্তফাপত্রে চূড়ান্ত স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে মন্তব্য করেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”
সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-গুঞ্জন চলছিল। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা ও সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধান ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে লিখিত ও নিজ হস্তাক্ষরে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।
একই সঙ্গে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির যাবতীয় কার্যাবলি পরিচালনা করবেন। সেই আইনি বিধান অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানা গেছে।


