হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের অস্ত্র মামলার রায় ৯ এপ্রিল
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন ঢাকার আদালত।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলাটির শুনানি শেষে রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকার একটি আদালত আগামী ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা এই অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার পটভূমি ও গ্রেপ্তার
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় একটি অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় ৭ নভেম্বর র্যাব ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এই উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সূত্র ধরেই তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অস্ত্র আইন ও লুটপাটের মামলা করা হয়েছিল।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ও পলায়ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজধানীর পল্টনে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে যে, মোটরসাইকেলে এসে ওমান হাদিকে গুলি করার সময় ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান।
বর্তমান অবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (STF)। অনুপ্রবেশের দায়ে বর্তমানে তারা ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জেল হেফাজতে রয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, এর মধ্যেই বাংলাদেশে বিচারাধীন তার পুরনো অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আগামী ৯ এপ্রিলের এই রায় ফয়সাল করিমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা এই রায় ও দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।


