বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর মন্ডলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এক নারীকে।
বগুড়া সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাপলা নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সাগর মন্ডল বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা:
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মন্ডলের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সাগর তাঁর স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা যখন ঘরের ভেতরে খাবার খাচ্ছিলেন, তখন সাগর বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন।
হঠাৎ বাইরে হট্টগোল শুনে তাঁর স্ত্রী মারজিয়া ঘর থেকে বের হন। এ সময় সাগরের জেঠাতো ভাই জেলহাসের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল টিনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সাগরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের আকুতি:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে খুব নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমার ছেলে একটু পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাঁকে একফোঁটা পানি পর্যন্ত দিতে দেয়নি। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিএনজিতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও খুনিরা পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।”
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ:
বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জড়িত সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত সাগরের বিরুদ্ধে পূর্বে মারামারি, মাদক ও অস্ত্র আইনসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


