ভারতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ: কালো পোশাকে লোকসভা চত্বরে বিরোধী জোটের তোপ
নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ভারতে লোকসভা চত্বরে কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট। অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।
ভারতে চলমান নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মম দমন-পীড়নের প্রতিবাদে অভিনব বিক্ষোভ দেখিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোটে থাকা দলগুলো। কালো পোশাক পরে ভারতের জাতীয় সংসদ (লোকসভা) চত্বরে প্রবেশ করে সরকারবিরোধী তীব্র স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করেন বিরোধী জোটের আইনপ্রণেতারা।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসসহ জোটভুক্ত অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যরা কালো রঙের জামা ও স্কার্ফ পরিধান করে সংসদে উপস্থিত হন এবং পরবর্তীতে সংসদের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কালো পোশাকে সংসদে হাজির সংসদ সদস্যরা
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সকালে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের (৭, লোককল্যাণ মার্গ) বাইরে বিক্ষোভ করেন বিরোধী শীর্ষ নেতারা। এ সময় সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
পরবর্তীতে লোকসভা অধিবেশন শুরু হলে কংগ্রেসের সব সংসদ সদস্য একযোগে কালো পোশাক পরে প্রবেশ করেন। একইভাবে সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্যরাও প্রতিবাদ হিসেবে কালো রঙের স্কার্ফ জড়িয়ে সংসদে উপস্থিত হন। অধিবেশনের মাঝেই তাঁরা সংসদের গেটের বাইরে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
‘আগে পদত্যাগ, তারপর আলোচনা’
বিরোধী নেতাদের স্পষ্ট দাবি— নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস এবং রাজপথে শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অমানুষিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের ঘটনার বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক আহ্বান করতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতা পবন খেরা কড়া ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "প্রথমেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে, তারপর অন্য বিষয়ে আলোচনা হবে। হাজার হাজার নির্দোষ শিক্ষার্থীর ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ ও কেমিক্যাল স্প্রে করার পর এখন কী আলোচনা সম্ভব? এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এক মুহূর্তও পদে থাকার অধিকার নেই।"
সংসদ ভবনের নিরাপত্তা প্রাচীর অতিক্রম করে বিরোধী সংসদ সদস্যদের এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।


